খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখায় পশ্চিমা কূটনীতিকদের উদ্বেগ
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পশ্চিমা কূটনীতিকদের অবহিত করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের গুলশানের বাসায় ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দলের নেতারা। বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকরা উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে বিএনপি প্রতিনিধিদের জানান। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন কূটনীতিবিদরা। এ সময় তারা দ্রুত তাদের নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও বিএনপি নেতাদের অবহিত করেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংলাপের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে তেমন আলোচনা হয়নি। তবে সংকট নিরসনে সংলাপ প্রয়োজন বলে কূটনীতিকরা মত দেন। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলন স্থগিত করা হলে সংলাপ হবে এমন কোনো শর্তে তারা রাজি নয়। সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপে বসার ঘোষণা দিলেই শুধু আন্দোলন স্থগিত করা হবে। বৈঠকে সুইডেন, নরওয়ে, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, স্পেনের রাষ্ট্রদূতরা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ও কানাডার হাইকমিশনারের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের ব্যাপারে বিএনপি বা কূটনীতিদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কিছু জানানো হয়নি। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে সবাই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। এ সময় কেউ কেউ মুখ ঢাকারও চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেই নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে যান মঈন খান। বেরিয়ে যাওয়ার সময় মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নৈশভোজের আমন্ত্রণে তিনি এখানে এসেছেন। সূত্র জানায়, বিএনপির আন্দোলনের যৌক্তিকতা, খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখা, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেফতার, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর গুলি, আরেক উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নেতাদের বাসায় গুলি ও বোমা হামলার বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়। বৈঠক সূত্র আরও জানায়, পশ্চিমা কূটনীতিকরা বিএনপি নেতাদের কাছে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে দেশব্যাপী সহিংসতার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তাদের জানানো হয়, এসব নাশকতার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা আরও জানান, সংকট উত্তরণে বারবার সরকারের কাছে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হলেও তারা পাত্তাই দিচ্ছে না। শুধু বিএনপি নয়, কাউকেই গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমগুলোকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি কূটনীতিকরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে তাদের দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। রিয়াজ রহমানের ওপর গুলির বিষয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি সরকারকে এই ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বুধবারই সরকারের পক্ষ থেকে ইউরোপের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। সেখানে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। www.24banglanewspaper.com
