দমন-পীড়নের পরিণাম শুভ হবে না
জনগণের আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী রক্তের নেশায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। বুধবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, প্রতিনিয়ত কুৎসিত হুমকি, জুলুম-নির্যাতন, অধিকার হরণ, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, অপহরণ-গুম-খুন, নাশকতা-অন্তর্ঘাত চালিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না দেখে তারা এখন তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নির্মম-নিষ্ঠুর নাটক সাজিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যার তাণ্ডবে মেতে উঠেছে। বিবৃতিতে সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায় থেকে শান্তিরক্ষার নামে দেখামাত্র গুলি, বিচার ছাড়াই হত্যা এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের আইন হাতে তুলে নেয়ার উসকানি দেয়া হচ্ছে। যৌথ অভিযানের নামে বিভিন্ন জনপদে বিরোধী দল সমর্থকদের ওপর পাইকারি উৎপীড়ন, বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ-লুটতরাজ এবং পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করার ঘৃণ্য ঘটনা ঘটছে। এসব হানাদারি কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না করলে এর জন্য পরিস্থিতির যদি আরও নৈরাজ্যকর অবনতি ঘটে তবে তার দায়ভার পুরোপুরি হুকুমদাতা ও পরিকল্পনাকারীদেরই বহন করতে হবে।বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক সংকটকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের দেশী-বিদেশী আহ্বানকে উপেক্ষা করে দমন-পীড়ন করে সমাধানের অপচেষ্টা এবং বিরোধী দলের শীর্ষ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কুৎসা ও হুমকির পরিণাম শুভ হবে না। রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে অতীত সন্ত্রাসী তৎপরতার হুকুমদাতাদেরও আগামীতে আইনের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কাজেই সবাইকে আমরা সংযত ও পরিণামদর্শী হওয়ার আহ্বান জানাই। আহ্বান জানাই হানাহানি ও দমন-পীড়নের পথ ছেড়ে সমঝোতার লক্ষ্যে পরিস্থিতিকে দ্রুত স্বাভাবিক করার।আমরা আরও মনে করি, সন্ত্রাস ও নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলার প্রতিকার ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। এ জন্য সত্যিকার অপরাধীদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও দলীয় সন্ত্রাসীদের খুনের ছাড়পত্র দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যার চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা আবারও কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করছি।সম্প্রতি ও বিগত সময়ে আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনী ও আওয়ামী লীগের হাতে এসব হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত এ বর্বর হত্যালীলা বন্ধ করতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করার ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড ঘটাবার কোনো অধিকার দেয়া হয়নি। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাসীনদের অবশ্যই দায়ী থাকতে হবে এবং জড়িত সবার বিরুদ্ধে আগামীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।বিবৃতিতে ২০ দল জানায়, আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনীর রয়েছে শৃংখলা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাবে আইনসম্মত কর্তব্য পালনের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। সুবিধাভোগী, দলবাজ ও পক্ষপাতদুষ্ট অল্পকিছু কর্মকর্তার অতি উৎসাহ ও বাড়াবাড়ির কারণে সেই সুনাম ক্ষুণœ হতে পারে না। আইনশৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আমরা নিরপেক্ষভাবে আইনসম্মত পন্থায় কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আমাদের প্রতিপক্ষ নন। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে নই। আমরা আশা করি, তারা এ দেশের সন্তান হিসেবে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা ও অনুভূতির পক্ষে দাঁড়াবেন। অন্যায় ও বেআইনি আদেশ-নির্দেশ পালন থেকে বিরত থাকবেন।বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আবারও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, ভোটের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের লক্ষ্যে জনগণের চলমান আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। এ আন্দোলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বর্তমান অবৈধ শাসকরা অতীতে বিরোধী দলে থাকতে আন্দোলনের নামে নাগরিক ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অকাতরে হত্যা করেছে। গানপাউডার দিয়ে যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে প্রকাশ্যে রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করে মৃতদেহের ওপর উল্লাস করেছে। সমুদ্র বন্দর অচল করেছে। রেলপথে নাশকতা করেছে। রেলস্টেশন জ্বালিয়ে দিয়েছে। পেট্রলবোমায় অসংখ্য মানুষকে দগ্ধ করেছে। এরা ক্ষমতায় আসার পর এই সেদিনও ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে মেরে গাড়িসহ পুড়িয়ে অঙ্গার করে দিয়েছে। সেই সন্ত্রাস-আশ্রিত রাজনীতির ধারকরাই এখন বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এবং তাদের নির্বাচনী প্রহসনকে বর্জন করার প্রতিশোধ নিতে অন্তর্ঘাত সৃষ্টি করে নারী ও শিশুসহ নিরপরাধ মানুষকে পেট্রলবোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করছে। একই সঙ্গে এসবের দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে হত্যাকাণ্ড ও জুলুম-নির্যাতন জোরদার করেছে। প্রতারক ও সন্ত্রাসীদের এসব হীন কার্যকলাপ, মায়াকান্না ও মেকি অভিনয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আটকাবস্থায় এমন বিচারবহির্ভূত হত্যকাণ্ডের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোটটি।সরকার পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছে : অপর এক বিবৃতিতে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত চলমান অবরোধের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বুধবার দলের সহদফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে রিজভী বলেন, সরকার দেশকে হত্যা ও লাশের মহামারীর দেশে পরিণত করতে পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করছে। এ সরকার যে ভয়ংকর গণদুশমন তার আরও একটি প্রমাণ হল- কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হত্যার জন্য পুলিশকে সমর্থন দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যেন হিটলারের সহযোগী নাৎসী আইকম্যানের ভূমিকা পালন করছেন। আদিম শিকারিরা যেমন শিকারকে বধ করার পর বন্য উল্লাসে মেতে ওঠে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য সেই উল্লাসেরই প্রতিধ্বনি। এ ধরনের মানবতাবিরোধী বক্তব্য শুধু বেআইনি অবৈধ সরকারের সদস্যদেরই সাজে। মঙ্গলবার সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি www.24banglanewspaper.com
