রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার যদি অনুমতি না দেয় আর বিএনপি যদি জোর করে সমাবেশ করতে চায়, যাতে সহিংসতা অনিবার্য- তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দলটি। আবার তারা যদি সমাবেশ না করে, তবুও ক্ষতির মুখে পড়বে। অবশ্য তেমনটি হলে ইমেজ সংকটে পড়বে সরকারও। বিশ্লেষকরা তাই বলছেন, এতে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সুজনের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে শনিবার এ নিয়ে কথা বলে যুগান্তর। তাদের বক্তব্যেই ওঠে এসেছে এ শংকার কথা। ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সরকার বিএনপিকে অনুমতি দিক বা না দিক ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে সেটার সমাধান করতেই হবে। বিএনপি যদি আগামীকাল শেষ পর্যন্ত অনুমতি না পায় এবং জোর করে সমাবেশ করতে চায় তাতে দল হিসেবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার সমাবেশ না করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যদি সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে দেশ ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সাখাওয়াত হোসেনের মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সার্বিক নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দল যেভাবে এ দিনটিকে স্মরণ করতে চাচ্ছে তাতে প্রমাণিত হয় এ নিয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। গণতন্ত্র হল সব দলের মতামত প্রকাশের সুযোগ। নিজেরা সমাবেশ করলে অন্যদেরও করতে দেয়া উচিত। না হলে সার্বিকভাবে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর দল হিসেবে উভয় দলই ক্ষতির সম্মুখীন হবে।ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, কাউকে সমাবেশ করতে না দেয়া কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রকাশ যা দুপক্ষের জন্যই খারাপ- এমনকি জনগণের জন্যও খারাপ। অনুমতি না দেয়ায় বিএনপির অধিকার হরণ হচ্ছে। আর বিএনপি সমাবেশ করতে না পারলে নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব পড়বে, তারা আস্থা হারাবে। তবে সাময়িকভাবে হতাশ হলেও দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেলে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে।মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের মতে, বিএনপির সমাবেশ বন্ধ করার চেয়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দিকে সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত। তাতে নাশকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, দুটি দলের কাছেই গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতাই মুখ্য। যদি গণতন্ত্র মুখ্য হতো তাহলে তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন নিশ্চিত করা, বাক স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার ও স্থানীয় সরকার কার্যকর করা নিয়ে কথা বলত।ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো দলকে সমাবেশের অনুমতি না দিলে আর গণতন্ত্র থাকে না। সেখানে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। ফলে বহু লোক জেল এবং মামলার শিকার হবে। এতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নেতাকর্মীরা মনোবল হারাবে। কিন্তু সরকারের দিক থেকেও স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা হবে। আর সার্বিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে এদেশের গণতন্ত্র।মাহমুদর রহমান মান্নার মতেও আগামীকালের ঘটনায় প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের গণতন্ত্র। তিনি বলেন, বিএনপি সমাবেশ না করতে পারলে দলটির নেতাকর্মীরা ম্রিয়মান হবে। সার্বিকভাবে দলটির নেতাকর্মীরা হতাশ হতে পারে।www.24banglanewspaper.com
কর্মসূচি ব্যর্থ হলে ক্ষতি হবে বিএনপির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার যদি অনুমতি না দেয় আর বিএনপি যদি জোর করে সমাবেশ করতে চায়, যাতে সহিংসতা অনিবার্য- তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দলটি। আবার তারা যদি সমাবেশ না করে, তবুও ক্ষতির মুখে পড়বে। অবশ্য তেমনটি হলে ইমেজ সংকটে পড়বে সরকারও। বিশ্লেষকরা তাই বলছেন, এতে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সুজনের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে শনিবার এ নিয়ে কথা বলে যুগান্তর। তাদের বক্তব্যেই ওঠে এসেছে এ শংকার কথা। ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সরকার বিএনপিকে অনুমতি দিক বা না দিক ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে সেটার সমাধান করতেই হবে। বিএনপি যদি আগামীকাল শেষ পর্যন্ত অনুমতি না পায় এবং জোর করে সমাবেশ করতে চায় তাতে দল হিসেবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার সমাবেশ না করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর যদি সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে দেশ ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সাখাওয়াত হোসেনের মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সার্বিক নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দল যেভাবে এ দিনটিকে স্মরণ করতে চাচ্ছে তাতে প্রমাণিত হয় এ নিয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। গণতন্ত্র হল সব দলের মতামত প্রকাশের সুযোগ। নিজেরা সমাবেশ করলে অন্যদেরও করতে দেয়া উচিত। না হলে সার্বিকভাবে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর দল হিসেবে উভয় দলই ক্ষতির সম্মুখীন হবে।ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, কাউকে সমাবেশ করতে না দেয়া কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রকাশ যা দুপক্ষের জন্যই খারাপ- এমনকি জনগণের জন্যও খারাপ। অনুমতি না দেয়ায় বিএনপির অধিকার হরণ হচ্ছে। আর বিএনপি সমাবেশ করতে না পারলে নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব পড়বে, তারা আস্থা হারাবে। তবে সাময়িকভাবে হতাশ হলেও দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেলে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে।মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের মতে, বিএনপির সমাবেশ বন্ধ করার চেয়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দিকে সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত। তাতে নাশকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, দুটি দলের কাছেই গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতাই মুখ্য। যদি গণতন্ত্র মুখ্য হতো তাহলে তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন নিশ্চিত করা, বাক স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার ও স্থানীয় সরকার কার্যকর করা নিয়ে কথা বলত।ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো দলকে সমাবেশের অনুমতি না দিলে আর গণতন্ত্র থাকে না। সেখানে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। ফলে বহু লোক জেল এবং মামলার শিকার হবে। এতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নেতাকর্মীরা মনোবল হারাবে। কিন্তু সরকারের দিক থেকেও স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা হবে। আর সার্বিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে এদেশের গণতন্ত্র।মাহমুদর রহমান মান্নার মতেও আগামীকালের ঘটনায় প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের গণতন্ত্র। তিনি বলেন, বিএনপি সমাবেশ না করতে পারলে দলটির নেতাকর্মীরা ম্রিয়মান হবে। সার্বিকভাবে দলটির নেতাকর্মীরা হতাশ হতে পারে।www.24banglanewspaper.com
