শিরোনাম
Loading...

news review 1

reveunis 2

Phone-Video

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৫

মাইনাসের চেতনা নয় প্লাসের প্রজ্ঞাই গণতন্ত্র


রাজনৈতিক জট কবে খুলবে কিংবা আদৌ খুলবে কিনা তা বলা কঠিন। তবে সামনে কঠিন সময় এটা বলা যায় নিশ্চিতভাবে। ৫ জানুয়ারি কি হবে- এটাও বড় কথা নয়, ভাবতে হবে সামনের দিনগুলো কেমন যাবে। রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। গত বছর গেছে দাবি-দাওয়া, সভা-সমাবেশ মূলত এসব নিয়েই। রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা যে ছিল না তা নয়, মাঝে মধ্যে হরতালও হয়েছে। বাধাবিপত্তি, মামলা, গ্রেফতার- সবই ছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংকটের সূচনা তা সমাধান হয়নি, হয়েছে আরও গভীর। গণতন্ত্র মানে বিরোধী মত নির্মূল নয়- গণতন্ত্র মানে শত ফুল ফুটতে দেয়ার অঙ্গীকার। শত মতবাদ বিকশিত হতে দেয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র হচ্ছে আধুনিক মানুষের সংস্কৃতি; যা মানুষের জীবন ও সভ্যতাকে বিকশিত করে, উন্নত করে, এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের দেশে ঘটছে তার বিপরীত। আমরা গণতন্ত্রের মানে দাঁড় করাচ্ছি একদিকে বিরোধী মত নিশ্চিহ্নকরণ; অন্যদিকে গণতন্ত্রের আন্দোলনে বা গণতন্ত্র রক্ষায় বেছে নিচ্ছি জ্বালাও-পোড়াও আর ধ্বংসযজ্ঞ- যার কোনোটাই গণতান্ত্রিক আচার বা আচরণ নয়।সুদীর্ঘ আন্দোলন, আত্মত্যাগ আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে এই দেশে অর্জিত হয়েছিল গণতন্ত্রের বিজয়। সেই গণতন্ত্র বিজয়ী হয়েও আজ পরাজিত, পর্যুদস্ত-এক ফেরারি অস্তিত্ব। গণতন্ত্রের যে চেহারা আজ দাঁড়িয়েছে তাতে যে কোনো সচেতন মানুষ বিস্ময়ে চিৎকার করতে পারেন- ‘কোথায় পালালো গণতন্ত্র?’ কবি আসাদ চৌধুরী তার এক কবিতায় ‘সত্য’ অনুসন্ধানে এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন সত্তরের দশকে। আর আজ একুশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে গণতন্ত্র চর্চার পঁচিশ বর্ষে এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের অন্তর্ধানে পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ছে। শিকার হচ্ছে গুম খুন আর অন্তর্ধানের। সত্যি তো- ‘কোথায় পালালো গণতন্ত্র, আর কে দেবে তার সন্ধান?’ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা যেমন গণতন্ত্র নয়, তেমনই ক্ষমতাই একমাত্র লক্ষ্য এবং ধ্যান-জ্ঞান, স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন- এও গণতন্ত্র নয়। অথচ গণতন্ত্রের নামে একশ্রেণীর অসহিষ্ণু ক্ষমতালিপ্সুর জিঘাংসার অসহায় শিকার হচ্ছে এদেশের মানুষ। গণতন্ত্র কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মতাদর্শ নয়, বরং গণতন্ত্র সমঝোতা-সৌহার্দ্যরে মতাদর্শ।এই তো মাত্র কয়েক দিন আগে জাপানে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন দিয়ে পুনরায় গণরায় নিয়েছেন। এমন উদাহরণ উন্নত দেশগুলোতে হরহামেশাই ঘটতে দেখি; কারণ তারা জনসাধারণের মতামতকে মর্যাদা দিতে অভ্যস্ত। ঠিক তার বিপরীত ঘটনা ঘটে আমাদের দেশে। যে যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন, তিনি সর্বোপায়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার জন্য সচেষ্ট থাকেন। জনমতের ওপর যদি তাদের ‘ন্যূনতম শ্রদ্ধা’ থাকত তাহলে এই আচরণে তারা অভ্যস্ত হতেন না।প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একবার ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। কড়াকড়ির শাসন দিয়ে ক্ষমতা সংহত করার তার সিদ্ধান্ত সেদেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি তার ভুল উপলব্ধি করে দেশবাসীর কাছে কড়া শাসনের ভুল স্বীকার করে, করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আবার ভোট পেয়ে ফিরে এসেছিলেন ক্ষমতায়। এখানেই গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য। বর্তমানে তার দল কংগ্রেস স্বল্প আসন পেয়ে সংসদের বিরোধী আসনে বসেছে। তাদের ভাষায় কোনো জিঘাংসা নেই। নেই ক্ষমতা হারানোর জন্য জনগণকে দোষারোপ করার মনোবৃত্তি। তারা বরং ক্ষমতায় থাকতে যেসব ভুল করেছে সে সব ভুল উপলব্ধি করার, সাধারণ মানুষের মন কীভাবে জয় করে হারানো জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করা যায় সে প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। হরতাল-বন্ধ-জ্বালাও-পোড়াও- এসবের মতো কোনো জনতাঘাতী-আত্মঘাতী কর্মসূচি তাদের চর্চা নেই।প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমাদের দুর্বলতার উৎসও জনগণ, আমাদের সফলতার উৎসও জনগণ।’ জনমতকে অথবা অপ্রিয়তা-অজনপ্রিয়তাকে, এমন মমতা দিয়ে উপলব্ধি করার জন্য যে প্রজ্ঞা, যে দূরদৃষ্টির প্রয়োজন সেই ‘প্রজ্ঞা’ ও দূরদৃষ্টির জন্য আমাদের আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে কে জানে!বাংলাদেশে এক পক্ষ বলছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা পেয়েছে। অন্যপক্ষের দাবি, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গণতন্ত্র লঙ্ঘিত হয়েছে- এই দুই দাবির মাঝখানে গণতন্ত্রের মূলে যে মানুষ, তার মতামতের যেমন কোনো গুরুত্ব নেই, তেমনই অধিকার আদায়ের নামে লঙ্ঘন করা হচ্ছে তাদের মৌলিক অধিকার।আগামীকাল ৫ জানুয়ারি। গণতন্ত্রের জন্য যুধ্যমান দুপক্ষই অনড়। এই যুদ্ধে কে ‘জিতবে’ তা আমরা জানি না। তবে সেই যুদ্ধে জনগণ যে জিতবে না তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ‘গণতন্ত্র’কে কেন্দ্র করে এমন প্রহসনের উদাহরণ পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কিনা আমাদের জানা নেই। দেশের মানুষ অবশ্যই বলবে, আমরা এই প্রহসন চাই না।গণতন্ত্র লড়াইয়ের ময়দান নয়, গণতন্ত্র সহিষ্ণুতার ময়দান, সমঝোতার ময়দান। গণতন্ত্র মাইনাসের চেতনা নয়, গণতন্ত্র প্লাসের প্রজ্ঞা। আমরা আশা করি আমাদের রাজনৈতিক নেতারা সেই প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন। ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন গণতান্ত্রিক চেতনাকেই। আস্থা রাখবেন দেশের মানুষের ওপর। বজায় রাখবেন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। www.24banglanewspaper.com

Related Post:

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

pop Earnings