বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আজ শুরু
২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ আর হরতালকে উপেক্ষা করে দলে দলে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে। তবে দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের ইজতেমা ময়দানে আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হবে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। ৩৩টি জেলার মুসল্লিরা বুধবার থেকে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। মুসল্লিদের জন্য ৩৯টি খিত্তা নির্ধারণ করা আছে। ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি খিত্তায় মুসল্লিরা অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। ১৮ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ৫০তম বিশ্ব ইজতেমা। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হয়েছেন। ৩৩ জেলার মুসল্লিদের ৩৯ খিত্তা : দ্বিতীয় পর্বে ৩৩ জেলার মুসল্লিরা ময়দানে স্থাপিত ৩৯টি খিত্তায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। এর মধ্যে ১ ও ২নং খিত্তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা, ৩ ও ৪নং খিত্তায় ঢাকা জেলা, ৫নং খিত্তায় কক্সবাজার জেলা, ৬নং খিত্তায় মানিকগঞ্জ জেলা, ৭নং খিত্তায় পিরোজপুর জেলা, ৮নং খিত্তায় পটুয়াখালী জেলা, ৯নং খিত্তায় টাঙ্গাইল জেলা, ১০নং খিত্তায় জামালপুর জেলা, ১১নং খিত্তায় বরিশাল জেলা, ১২নং খিত্তায় নেত্রকোনা জেলা, ১৩নং খিত্তায় কুমিল্লা জেলা, ১৪নং খিত্তায় মেহেরপুর জেলা, ১৫নং খিত্তায় ঝিনাইদহ, ১৬, ১৭ ও ১৮নং খিত্তায় ময়মনসিংহ জেলা, ১৯নং খিত্তায় লক্ষ্মীপুর জেলা, ২০নং খিত্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, ২১নং খিত্তায় কুড়িগ্রাম জেলা, ২২নং খিত্তায় বগুড়া জেলা, ২৩নং খিত্তায় পঞ্চগড় জেলা, ২৪নং খিত্তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, ২৫নং খিত্তায় নীলফামারী জেলা, ২৬নং খিত্তায় নোয়াখালী জেলা, ২৭নং খিত্তায় ঠাকুরগাঁও জেলা, ২৮নং খিত্তায় পাবনা জেলা, ২৯নং খিত্তায় নওগাঁ জেলা, ৩০ ও ৩১নং খিত্তায় মুন্সীগঞ্জ জেলা, ৩২নং খিত্তায় মাদারীপুর জেলা, ৩৩নং খিত্তায় গোপালগঞ্জ জেলা, ৩৪নং খিত্তায় সাতক্ষীরা জেলা, ৩৫নং খিত্তায় মাগুরা জেলা, ৩৬নং খিত্তায় কুষ্টিয়া জেলা, ৩৭নং খিত্তায় সুনামগঞ্জ জেলা, ৩৮নং খিত্তায় খুলনা জেলা ও ৩৯নং খিত্তায় মৌলভীবাজার জেলার জন্য নির্ধারণ করা রয়েছে।নিরাপত্তায় আইনশৃংখলা বাহিনীর ১২ হাজার সদস্য : ইজতেমায় মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে প্রায় ১২ হাজার পুলিশের পাশাপাশি র্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। গাজীপুর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম জানান, পুলিশের প্রায় ১২ হাজার সদস্য ইজতেমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন। বৃহস্পতিবার থেকেই আবার পূর্ণোদ্যমে র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। তিনি আরও জানান, বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে মুসল্লিদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্বে নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠুভাবে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকছে ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা ও গাজীপুর জেলা পুলিশ। জানা গেছে, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ৫টি করে স্তরে বিভক্ত হয়ে পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, নৌটহল, চেকপোস্ট ও র্যাবের হেলিকপ্টার টহল দেবে বলে জানা গেছে।মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম : গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিসুর জানান, টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক কার্যক্রম মনিটর ও যোগাযোগের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা থাকছে। ইজতেমা মাঠে প্রবেশের বিভিন্ন গেট, বিশেষ করে হোন্ডা গেট, বাটা গেট, মুন্নু গেটসহ টঙ্গী হাসপাতালে অস্থায়ী মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হবে। এছাড়া সিভিল সার্জন ঢাকা বিভাগ কর্তৃক বিশ্ব ইজতেমা মাঠের পশ্চিমদিকে দুটি মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে তিন শিফট চালু রাখা হবে। ইজতেমা উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।বিশেষ ট্রেন : ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।১৮ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন টঙ্গী রেল স্টেশনে ২ মিনিট বিরতি দেবে। আখেরি মোনাজাতের পরের দিন টিকিটধারী মুসল্লিরা যাতে উঠতে পারেন সে জন্য সুন্দরবন, পারাবত, উপকূল, এগারসিন্ধুর, একতা, অগ্নিবীণা, নীলসাগর, জয়ন্তিকা, সিল্কসিটি, পদ্মা ও মহানগর গোধূলি ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে ২ মিনিট বিরতি দেবে।বিআরটিসি : রাজধানীর গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, কমলাপুর, মতিঝিল, ফার্মগেট, গাবতলী, মহাখালী, আজিমপুর থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিস চালু থাকবে। ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২য় পর্বের আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত কাকরাইল মসজিদ সংলগ্ন পয়েন্ট থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত দোতলা বাস চলাচল করবে। বিমানবন্দর থেকে বিদেশি মুসল্লিদের ইজতেমাস্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাস থাকবে। বিআরটিসি ইজতেমা সার্ভিসের বাসগুলো আরিচা, পাটুরিয়াঘাট, মাওয়া, মিরপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ভৈরব, কুটি, চৌমহনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, বিরিশিরি, নেত্রকোনা, সোনাপুর, চরজব্বার, লক্ষ্মীপুর, কলমাকান্দা, মদন, মনোহরদী, মিরকাদিম, মোহনগঞ্জ, আখাউড়া, ময়মনসিংহ, সায়দাবাদ, জয়দেবপুর, গাবতলী থেকে মুসল্লিদের আনা-নেয়া করবে। আখেরি মোনাজাতের পরের দিন অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি মুসল্লিদের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেয়ার জন্যও বিআরটিসির বাসগুলো চলাচল করবে।বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বিকল্প রাস্তা ও নির্ধারিত পার্কিং : ১৮ জানুয়ারি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাজুখান ব্রিজ থেকে স্টেশন রোড ওভার ব্রিজ এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু টেক্সটাইল মিল গেট পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকবে। ইজতেমা চলাকালীন জয়দেবপুর-চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য টঙ্গীর কাদেরীয়া টেক্সটাইল মিল কম্পাউন্ডার, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, চান্দনা চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড এবং নরসিংদী-কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসল্লিদের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীর কেটু (নেভি) সিগারেট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন খোলা জায়গা নির্বারণ করা হয়েছে। এছাড়া বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা হয়ে ঢাকাগামী যানবাহন জয়দেবপুর থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী হয়ে ডিএমপি এলাকায় প্রবেশের পরিবর্তে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, চন্দ্রা ত্রিমোড়, বাইপাইল, নবীনগর, আমিন বাজার হয়ে চলাচল করার জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।যেসব পথে গাড়ি চলবে : শনিবার রাত ১১টার পর গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, আশুলিয়া-বাইপাইল, কামারপাড়া, স্টেশন রোড থেকে মীরের বাজার পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। বিকল্প পথ হিসেবে ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে যারা ঢাকা যাবেন তাদের ভোগড়া বাইবাস থেকে মীরের বাজার হয়ে কাঁচপুর দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। আবার যারা রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা যাবেন তারা নবীনগর-চন্দ্রা কিংবা আশুলিয়া-বাইপাইলের ধৌড় ব্রিজ হয়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে অতিক্রম করতে বলা হয়েছে। মোনাজাতের দিন ঢাকা থেকে ইজতেমাস্থলগামী মুসল্লিদের টঙ্গী ব্রিজ পরিহার করে আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া সড়ক ধরে হেঁটে ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম পাশ দিয়ে ভাসমান সেতু দিয়ে ময়দানের ভেতরে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।www.24banglanewspaper.com
