একটা
সময় ছিল যখন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের স্পিনার সামলানোর ব্যাপারটি প্রবাদের
পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্পিন খেলতে
পারেন- এমন কথাও চাউর ছিল ক্রিকেটদুনিয়ায়। কিন্তু সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট
অনেক আগেই পেছনে ফেলে এসেছে কিনা, এ আলোচনা এখন চারদিকে। অ্যাডিলেড টেস্টে
ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যেভাবে নাথান লায়নের মতো এক নিরীহ-দর্শন অফব্রেক
বোলারের শিকারে পরিণত হলেন, তাতে এমন কথা ওঠাটাই স্বাভাবিক- ভারতীয়
ব্যাটসম্যানরা স্পিন বোলিং খেলার কৌশলটা ভুলে গেছেন কিনা।
সুনীল গাভাস্কার, দিলীপ ভেংসরকার,
মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, শচীন টেন্ডুলকারদের কথা বাদ দিন।
হালের ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ভালোমানের স্পিন খেলার দুর্বলতা কিন্তু অনেক
আগ থেকেই প্রকাশিত। মন্টি পানেসার, গ্রায়েম সোয়ানদের মতো স্পিনারদের
বিপক্ষে খেলতে গিয়েই আশংকাটা তৈরি করেছিলেন তারা। অ্যাডিলেড টেস্টে নাথান
লায়ন সেই আশংকাটাকেই সত্যে পরিণত করলেন কিনা, সে আলোচনাও এখন উত্তুঙ্গ। যে
বোলারের হাতে দুসরা নেই, স্ট্রেইটার নেই, নিখুঁত বাঁক যার একমাত্র অস্ত্র-
সেই বোলারের কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণতাদের! স্পিনে পারদর্শিতার কিংবদন্তি কি
তাহলে অতীতের ইতিহাসই হয়ে গেল!নাথান লায়নের বলে ব্যর্থতার মূল কারণ খুঁজে
ফিরছেন অনেক বিশ্লেষকই। একটু নরমপন্থীদের মতে, অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় দল
শুধু অস্ট্রেলিয়ার উইকেটের বাউন্স নিয়েই ভেবে এসেছে। তাদের হোমওয়ার্কে
মিচেল জনসনের মতো খুনে বোলাররা যতটা জায়গা নিয়েছিলেন, নাথান লায়নের মতো
অফব্রেক ততটা ছিলেন না। অস্ট্রেলীয় পেসারদের খেলার ব্যাপারে বিভিন্ন
জল্পনা-কল্পনা করতে গিয়ে দলটি বেমালুম ভুলে গিয়েছিল লায়নের কথা। অ্যাডিলেডে
সেই ভুলের খেসারতই ভারতীয় দল দিয়েছে। ওয়েবসাইট।
www.24banglanewspaper.com
www.24banglanewspaper.com
