শিরোনাম
Loading...

news review 1

reveunis 2

Phone-Video

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৫

মুখ থুবড়ে পড়েছে গণপরিবহন খাত

টানা অবরোধের ফাঁদে হুমকির মুখে পড়েছে সড়ক পরিবহন খাত। ক্ষমতাসীন দলের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞায় দুদিন ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধে এ পর্যন্ত আরও ১৪ দিন মিলিয়ে লাগাতার ১৬ দিনের অবরোধে সারা দেশে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে দিনের বেলা অপেক্ষাকৃত যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও এর বাইরের চিত্র ভিন্ন। দূরপাল্লার বাস চলাচল একেবারে বন্ধ রয়েছে বললে ভুল হবে না। কিছু বাস আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রহরায় চললেও তা ১০-১৫ শতাংশের বেশি নয়। একইভাবে চলছে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস। অবরোধের প্রথমদিকে সরকার সমর্থক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের তত্ত্বাবধানে পরিবহন মালিকদের একটি অংশ এ সেক্টর সচল রাখার চেষ্টা করলেও কয়েকদিনের মধ্যে সেখান থেকে অনেকে পিছু হটে আসেন। পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চালকরা যেমন গাড়ি চালাতে নারাজ, তেমনি মালিকরাও আগুনের হাত থেকে যানবাহন বাঁচাতে গাড়ি নিরাপদ টার্মিনালে রেখে দিয়েছেন। কিন্তু সংকট বেধেছে অন্যখানে। টানা অবরোধ অব্যাহত থাকায় মালিক-শ্রমিক প্রত্যেকের পিঠ দেয়ালে ঠেকতে বসেছে। শীর্ষস্থানীয় পরিবহন মালিকরা বলছেন, এ অবস্থা আর কিছুদিন অব্যাহত থাকলে পুরো পরিবহন খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। অনেকে গাড়ি কেনার ব্যাংক লোন শোধ করতে পারবেন না। আর যানবাহনের গতির সঙ্গে অর্থনীতির অগ্রগতির চাকা যেহেতু প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাই সার্বিক অর্থনীতিতে চরম ধস নামবে। সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দামও হু হু করে বেড়ে যাবে। পরিবহন মালিক সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী গত ১৬ দিনের অবরোধে পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এমন গাড়ির সংখ্যা শতাধিক। হামলা ও অগ্নিসংযোগে এ পর্যন্ত ১৬ জন পরিবহন শ্রমিক মারা গেছেন। পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়ায় অনেক গাড়ির চেসিস ছাড়া বাকি সব পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির যথাযথ ক্ষতিপূরণ সরকার বা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি থেকে পাওয়া যায় না বলে জানান পরিবহন মালিকরা। তবে কিছুটা নিরাপদে রয়েছেন লঞ্চ মালিকরা। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া এ পর্যন্ত নৌযানের ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। হামলার আশংকায় লঞ্চে যাত্রী উপস্থিতি কমেছে। পণ্য পরিবহন অনেকটা শূন্যের কোঠায়।ভুক্তভোগী বাস ও ট্রাক মালিকদের তথ্যমতে, অবরোধে গাড়ি চালাতে না পারায় সারা দেশে কোটি কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। আয় বন্ধ হলেও ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের খোরাকি, কাউন্টার ভাড়া, গ্যারেজ ভাড়া, কাউন্টার মাস্টারদের বেতনসহ মোটা অংকের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। এর সঙ্গে গুনতে হচ্ছে ব্যাংকের সুদ ও কিস্তির টাকা। দীর্ঘদিন যানবাহন বন্ধ থাকায় এসব ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা। মালিকদের মতে, প্রতিদিন গাড়ি বন্ধ থাকলে ২০০ কোটি টাকা লোকসান হয়। গত ১৪ দিনে লোকসানের পরিমাণ কম-বেশি ২৮ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া যেসব গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, আইনি জটিলতার কারণে সেগুলো পুলিশ হেফাজতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেন-দরবার করে ওই গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে পারছেন না।পরিবহনের ওপর হামলার কারণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের ড. মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, যে কোনো কর্মসূচিতে মানুষকে ভয় দেখানোর সহজ জায়গা রাস্তা। মানুষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশে মূলত পরিবহনের ওপর হামলা হয়। এ সেক্টর বন্ধ থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।ময়মনসিংহ, সিলেটসহ কয়েকটি রুটে এনা ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পৌনে একশ বাস চলাচল করে বলে জানান কোম্পানির মালিক খন্দকার এনায়েতউল্লাহ। লোকসানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি কোচ দিনে-রাতে দুই ট্রিপ দিয়ে থাকে। প্রতিটি গাড়িতে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার থাকে। এ হিসাবে প্রতিটি গাড়িতে দুই শিফটে ৬ জন স্টাফ রয়েছেন। গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলেও স্টাফদের খোরাকি বাবদ ২০০ টাকা হারে দৈনিক ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। এর বাইরে কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বাস টার্মিনালগুলোতে কাউন্টার ভাড়া বাবদ মাসে খরচ রয়েছে ১৮ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতিটি বাসে ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে হয়। মোটা অংকের এ টাকা যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে ভাড়া থেকে আয় হয়। হরতাল-অবরোধে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে মালিকদের আয় বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অবরোধে গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। একটি কোচের সামনের গ্লাস ভেঙে গেলে মানভেদে ৪০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকায় কিনতে হবে। আর জ্বালিয়ে দিলে গাড়ির বডি, সিট, চাকা, ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ওই গাড়ি সচল করতে ৪ লাখ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পার্সেল পণ্য পরিবহন করে এসআর পরিবহন লিমিটেডের দেড়শ গাড়ি। এ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান জিআর শহীদ যুগান্তরকে বলেন, গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের রুটগুলোতে গড়ে সাড়ে ৫০০ গাড়ি ছেড়ে যায়। একই সংখ্যক গাড়ি প্রবেশ করে। অর্থাৎ গড়ে ১ হাজার ১০০ সিঙ্গেল ট্রিপ হয়। প্রতি ট্রিপে গড়ে ১৫ হাজার হিসেবে দেড় কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মালিকরা। অবরোধের কারণে পরিবহন মালিকদের বাস দেশের বিভিন্ন টার্মিনালে আটকা পড়েছে। ওই গাড়ি পাহারা দেয়ার জন্য গাড়িতে একজন হেলপার রাখা হয়। গাড়ি বন্ধ থাকলেও ওই হেলপারকে দৈনিক ২০০ টাকা হারে খোরাকি দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, পরিবহন বন্ধ থাকায় কুরিয়ার সার্ভিস ও হাইওয়ের হোটেল ব্যবসায় ধস নেমেছে।যে কোনো সহিংস ঘটনায় প্রথম টার্গেটের শিকার হয় পরিবহন খাত। মালিকদের অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে পরিবহনের ওপর হামলা হয়েছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান টার্গেট পরিবহন খাত। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের শেষের কয়েক মাস ও গত বছরের শুরুতে গণপরিবহনের ওপর ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে সরকার তরফে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়, যা খুবই সামান্য। ওই সময়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই অবরোধে আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়ল গণপরিবহন ব্যবস্থা। তারা আরও বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষোভ, পাড়া-মহল্লার সংঘর্ষ থেকে শুরু করে যে কোনো বিক্ষোভ হলে প্রথমেই গাড়ি ভাংচুর চালানো হয়। আবার ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের যাতায়াতে পরিবহন বাস মালিকদের বাধ্য করা হয়। সারা দিন বসিয়ে রেখে কোনো কোনো সময় নামকাওয়াস্তে ভাড়া দেয়া হয়।সোহাগ পরিবহনের মালিক ও গাবতলীকেন্দ্রিক পরিবহন মালিক সংগঠন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সোহেল তালুকদার ফারুক বলেন, চলমান অবরোধে প্রতিদিন কমবেশি ২০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। পরিবহন মালিকরা ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে মালিকদের এ ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখার অনুরোধ জানান তিনি।পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিকদের একাংশের সংগঠন বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব বলেন, সারা দেশে তিন লাখের বেশি বাস-ট্রাক রয়েছে। এর মধ্যে খোলা ও কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা সোয়া এক লাখ। এ পর্যন্ত ৭০-৮০টি ট্রাকে আগুন দেয়া হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে শতাধিক ট্রাক। অবরোধে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেwww.24banglanewspaper.com

Related Post:

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

pop Earnings