গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী দেশবাসীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অবৈধ সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়া যাবে না। পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন নিরিহ মানুষের বুকে গুলি চালাবেন না। এখনো সময় আছে জনগণের পক্ষে অবস্থান নিন। অবৈধ সরকারের অবৈধ নির্দেশনা মানবেন না। বিবেককে জাগ্রত করুন। ইস্ট লন্ডনের অট্রিয়াম অডিটোরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্য ও কাল দিবস’ উপলক্ষ্যে সমাবেশে যোগ দিয়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যে আন্দলন শুরু হয়েছে তা সফল না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। জনগণের ভোটারাধিকার ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশকে মুক্ত করার এবারের আন্দোলনের বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ সর্বশক্তি দিয়ে দেশ রক্ষার লড়াইয়ে শরিক হউন।বিজয় সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি এ আন্দোলনের মাঠ ছাড়বে না ঘোষণা দিয়ে দেশের আপামর জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এজন্য কারো ঘোষণার অপেক্ষায় না থেকে যে যেখান থেকে যেভাবে পারেন দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার এ চূড়ান্ত লড়াইয়ে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ারও আহবান জানান তিনি।তিনি তৃনমূল নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রর প্রতীক । বেগম খালেদা জিয়া আজ অবরুদ্ধ। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তোমাদের মায়ের মতো তোমাদের কাছে আসতে পারছেন না । তোমাদেরকে মায়ের কাছে গিয়ে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করে আনতে হবে। তারেক রহমান দৃঢ় কন্ঠে বলেন শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দলন চলবে।তারেক রহমান নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে স্বৈরাচারী হাসিনার পতন ঘটাতে ময়দানে নেমে আসুন। আন্দলনকে লক্ষ্যে পৌছাতে হবে। আন্দলন থামানো যাবে না লাগাতার চালাতে হবে। ঢাকা শহরের এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা বিছিন্ন করে দিন। খেয়াল রাখবেন নিরিহ মানুষেরা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। লক্ষে পৌঁছাতে যা যা করা দরকার সব করবে তৃণমূল নেতা কর্মীরা, ইনশাল্লা বিজয় আমাদের হবেই।শেখ হাসিনার বিচার করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সেনাবাহিনী অফিসারদের হত্যার জন্য, আইটি সেক্টরের নাম করে তার ছেলের টাকা লুট করার জন্য এবং হেফাজতে ইসলামের ওপর হামলা, ইলিয়াস আলীসহ আমাদের নেতাকর্মীদের গুমের অপরাধে শেখ হাসিনার বিচার হবে।তিনি বলেন, বিচার হবে বলেই শেখ হাসিনা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পান। কারণ তারা জানে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, কিছু দিন আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘর থেকে বের হতে দেবে না। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বলতে চাই, আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে আওয়ামী লীগের ওই সব নেতাকর্মীরা যেন আর ঘর থেকে বের হতে না পারে। আন্দোলন সফল করতে হবে। আন্দোলন সফল হওয়ার পর গঠিত সরকারকে আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার করতে হবে।রাজাকারদের সঙ্গে বরাবরই আওয়ামী লীগের সখ্য রয়েছে- এমন অভিযোগ করে বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আমার জিজ্ঞাসা-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের জন্য তোমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলে তা কি হয়েছে? তা হলে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হত না। নতুন প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান তোমরা কোন বাংলাদেশ চাও? আমার দল সুযোগ পেলে এ বাংলাদেশে কালো বিড়ালের সুযোগ থাকবে না। অন্যায়কে অন্যায় বলা হবে।তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে শুধু ফেসবুকে বসে থাকলে চলবে না। ঘরে বসে থাকলে হবে না। আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে নেমে আসতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে তৃণমূল নেতাকমীরা ৯০-এ স্বৈরাচারকে পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আবার কেন পারবেন না। যখন দেখবেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে কেবল তখনই আন্দোলন বন্ধ হবে। শেখ হাসিনার বিদায় না হওয়ার আগে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। রাজপথ ছাড়া যাবে না।সরকার সমর্থক সাংবাদিকদের বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাগর-রুনির নিস্পাপ শিশু মেঘের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও আপনারা আপনাদের সহকর্মীদের বিচার নিশ্চিত করতে সোচ্ছার হন।যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতশত নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন।www.24banglanewspaper.com
