মানি
লন্ডারিং আইনে ফেঁসে যেতে পারেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)
সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। জাতীয় ফুটবল দলের দুই সাবেক ডাচ কোচ ডি
ক্রুইফ ও রেনে কোস্টারের বেতন-ভাতা বাবদ দুই লাখ ৪০ হাজার ইউরো (প্রায় আড়াই
কোটি টাকা) পাঠানোর জন্য অনুমতি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি
দিয়েছে বাফুফে। অথচ দুই কোচ চার মাসের বেতন-ভাতা বাবদ পাবেন ৯০ হাজার ইইরো।
২০১৩
সালে ১ জুন দু’বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্রুইফ। সিলেট
বিকেএসপি ফুটবল একাডেমি পরিচালনার জন্য আনা হয়েছিল রেনে কোস্টারকে। কিন্তু
পরবর্তী সময়ে রেনে কোস্টারকে একাডেমির কোচ না করে জাতীয় দলের সহকারী কোচ
করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ডি ক্রুইফকে বছরে এক লাখ ৪০ হাজার ইউরো এবং রেনে
কোস্টারকে এক লাখ ইউরো বেতন-ভাতা দেয়ার কথা। এক বছর অনিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা
দেয়া হলেও গত বছরের জুলাই থেকে পারিশ্রমিক নিয়ে নয়ছয় শুরু করে বাফুফে। এ
নিয়ে বেশ কয়েক দফা কোচদের সঙ্গে বাফুফের মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত বছর
অক্টোবরের শেষে পাওনা না মিটিয়ে বিদায় করে দেয়া হয় দুই ডাচ কোচকে। বিদায়
করার জন্য কোচদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলে বাফুফে। কোচও একহাত নিয়েছিলেন
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে। পাওনা আদায়ে ফিফার কাছে নালিশ দেয়ার
হুমকি দিয়েছিলেন ক্রুইফ ও কোস্টার। হুমকির মুখে অবস্থা বেগতিক দেখে কোচদের
সঙ্গে সমঝোতা করে বাফুফে। সমঝোতা অনুযায়ী ২০১৪ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর
পর্যন্ত চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু কোচদের বেতন-ভাতা
পরিশোধের নাম করে মোটা অংকের অর্থ দেশের বাইরে পাচারের তৎপরতা শুরু হয়।
তারই অংশ হিসেবে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি যুব ও ক্রীড়া
মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়। যে চিঠিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের এক বছর
অর্থাৎ ১ জুলাই ২০১৪ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত ডি ক্রুইফের প্রাপ্য বেতন
এক লাখ ৪০ হাজার ইউরো এবং বাফুফে রেনে কোস্টারের বেতন এক লাখ ইউরোসহ মোট
দু’লাখ ৪০ হাজার ইউরো কোচদের হিসাব নম্বরে বৈদেশিক মুদ্রায় স্থানান্তর করার
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কোচদের হিসাব নম্বর দেখানো
হয়েছে ডি ক্রুইফ, রেবো ব্যাংক নেদারল্যান্ডস। হিসাব নং- IBAN nr.
NL66RABO0166403725। অন্যদিকে রেনে কোস্টারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো এবিএন
ব্যাংক, নেদারল্যান্ডস। হিসাব নং- NL 39ABNA062208452।বাফুফের
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই অর্থ দুই কোচের ব্যাংক
হিসাব নম্বরে পাঠানোর বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের
অনাপত্তি জানিয়েছে। মঙ্গলবার অর্থসচিবের (ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
বিভাগ) কাছে পাঠানো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের চিঠির (নং-
৩৪.০০.০০০০.০৭১.০২০.২২২.২০১৪ (অংশ-২)-১৩, তারিখ- ২০.০১.২০১৫) অনুলিপি দেয়া
হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব ও বাফুফের
সাধারণ সম্পাদককে। পাওনার বাইরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা দু’কোচের হিসাবে
পাঠানোকে বৈধতা দেয়ার জন্য সরকারের অনুমোদন নিতে যাচ্ছে তথ্য গোপন করে।
কোচদের বেতন মাত্র চার মাসের বাকি ছিল। অথচ এক বছরের বেতন পাঠানোর নাম করে
বিদেশে টাকা পাচারের এই অশুভ তৎপরতা ফাঁস হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বাফুফের
সাধারণ সম্পাদকের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে অস্বীকার
করেন। পরে যুগান্তরের হাতে তথ্য-প্রমাণ থাকার কথা বলা হলে আমতা আমতা করেন
আবু নাঈম সোহাগ। ইনিয়ে-বিনিয়ে বলেন, ‘আসলে আমরা দুই কোচের পাওনা ২১ হাজার
ইউরো পাঠাব। দুই লাখ ৪০ হাজার ইউরো পাঠাব না।’ তাহলে বাকি দই লাখ ১৯ হাজার
ইউরো পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে কেন? এটা কি দু’কোচকে ম্যানেজ করে বিদেশে
অর্থ পাচার করার জন্য? এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন বাফুফের
সাধারণ সম্পাদক।
www.24banglanewspaper.com
