বিএনপিকে এক্সিট দিতে আলীগকে তাগিদ ৫ শরিকের
চলমান সংকট থেকে উত্তরণে আওয়ামী লীগকে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছে শরিকরা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ১৪ দলের বৈঠকে শরিক দল জেপি, ন্যাপ, বাসদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ও তরিকত ফেডারেশনের নেতারা এই তাগিদ দেন। তারা বলেন, বিএনপিকে বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ সরকারকেই তৈরি করে দিতে হবে। এজন্য আলোচনার বিকল্প নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরুর পরিবেশ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সরকারের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।< ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন উদ্ভূত পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই সংকটকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্যের এ সরকারের জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিএনপিকে স্কেপ রুট দিতে হবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আলোচনার পথ বন্ধ করা ঠিক হবে না। কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক অসিত বরণ রায় বলেন, অবরোধের নামে নন ইস্যুকে ইস্যু করার চেষ্টা চলছে- এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ করা একেবারেই ঠিক হবে না।বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্মূল করার বিষয়ে কথাবার্তা বলা উচিত নয়। বিএনপিকে বর্তমান অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জায়গা দিতে হবে। তারা যদি আলোচনা করতে চায়- তাহলে সংবিধানের মধ্য থেকেই আলোচনার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি বলেন, বিএনপি সংবিধান মেনে যদি নির্বাচনে আসে তাহলে তাদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে।তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার বিষয়ে শরিকদের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দিন খান বাদল। নাছিম বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের পেছনে ফেরার আর কোনো পথ নেই। আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে বাদল বলেন, নো, দেয়ার ইজ নো স্কোপ। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের জিততে হবে। বিএনপি যদি অবরোধের এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে না পারে তাহলে ২০১৫ সালের মধ্যে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। আর সরকার যদি এ পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে না পারে তবে আমাদের বিপদ আছে।বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান যুগান্তরকে বলেন, তারা মূলত (আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের পাঁচ শরিক) চলমান সংকট থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে বিএনপিকে তাদের অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি থেকে বের হয়ে আসার একটি জায়গা বা পথ তৈরিতে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আলোচনার পথ খোলা রাখার জন্যই তিনি এ পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান। বৈঠকের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে যদি গণতান্ত্রিক পথে ও সংবিধানের অধীনে বিএনপি নির্বাচন করতে চায় তাহলে সে বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন। কারণ এই সংকটটা রাজনৈতিক। সুতরাং একে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সাংবিধানিক পরিধির মধ্যে কেউ যদি আলোচনা করতে চায়- তাহলে সে পথ বন্ধ করা ঠিক হবে না বলে তিনি বৈঠকে মত দিয়েছেন।বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতার কাছে শরিকদের আলোচনার প্রস্তাবের সত্যতা জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি তা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ বৈঠকে বিএনপিকে এক্সিট পয়েন্ট তৈরি করে দিতে শরিকরা তাদের পরামর্শ দিয়েছে। তবে বিষয়টি বৈঠকেই নাকচ হয়ে যায়।পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ঘোষণা : এদিকে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন ১৪ দলের নেতারা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এ কমিটি জনগণকে সব নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে সচেতন করতে উদ্বুদ্ধ করবে। কমিটির সদস্যরা আইনশৃংখলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে। এদিকে এ বৈঠকে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন আওয়ামী লীগের শরিকরা।আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে ১৪ দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনের মুখপাত্র, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের এসব বিষয় অবহিত করেন। তিনি বলেন, দেশ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খালেদার সন্ত্রাসীরা মাঠে রয়েছে। তারা চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এ হামলার জন্য খালেদা জিয়াই দায়ী। তার নির্দেশেই এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা। এই সন্ত্রাসীদের টাকা দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে। এসব সন্ত্রাসী জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারছে।নাসিম বলেন, বিএনপি এখন তৃতীয় শ্রেণীর রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে বলব। তাদের আরও কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এদের আর বিন্দুমাত্র ছাড় নয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, জাসদের মাঈনুদ্দীন খান বাদল, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টি-জেপির শেখ শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার, ডা. শাহাদৎ হোসেন, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসীত বরণ রায় প্রমুখ।www.24banglanewspaper.com
