শিরোনাম
Loading...

news review 1

reveunis 2

Phone-Video

সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০১৫

তিন রাত অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া


গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন রাত ধরে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন। সেখান থেকে তিনি ওই রাতে ৯টার দিকে দলের দফতর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে পল্টনের উদ্দেশে রওয়না হলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন। এরপর আর বের হতে পারেননি তিনি। শনিবার রাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত তাকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। শনিবার রাত ১০টার পরপরই বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি রোববার রাত থেকে ইট-বালুভর্তি ট্রাক এনে রাখা হয় কার্যালয়ের দুই দিকের সড়কে। ১১টি গাড়ি রাস্তা ব্লক করে রাখে। এ কারণে ভেতর থেকে আর কোনো গাড়ি বাইরে বের করা সম্ভব হয়নি। এদিকে সোমবার রাত ৯টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল করা হয়। এ সময় ১১টি ট্রাকই সরিয়ে নেয় পুলিশ। কমানো হয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যাও। রোববার দুপুরে ও বিকালে একাধিক প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। প্রতিনিধি দলের কাছে খালেদা জিয়ার নির্দেশনা ছিল- কর্মসূচি হবে, আন্দোলন চলবে। সোমবার বিকালে তিনি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধান ফটকে আগেই বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হয়।বিএনপি নেত্রীর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে তিন দিন সবার নজর ছিল। নেত্রী কখন বের হচ্ছেন, কর্মসূচিতে যেতে পারবেন কিনা, গেলেও কখন বের হবেন, পুলিশ ভেতর থেকে বাইরে আসতে দেবেন কিনা- এসব প্রশ্ন ছিল সবার মাঝে। শনিবার রাত থেকে সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত সবার দৃষ্টি ছিল গুলশানেই। খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসার আগে সোয়া ৩টার দিকে গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা নারী নেত্রীরা কালো পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াসহ নারী নেত্রীরা কার্যালয়ের ভেতরে হইচই করতে থাকেন। দু-তিন মিনিট তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে চিৎকারও করেন। এরপর প্রধান গেটে তালা লাগা কেন জানতে চেয়ে গেটে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। পুলিশ তখন তাদের লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ সংবাদকর্মীরা আক্রান্ত হন। পিপার স্প্রে নিক্ষেপের পর ঝাঁজে কয়েকবার কাশতে থাকেন খালেদা জিয়া। তিনি অসুস্থতা অনুভব করেন। বিকালের এ ঘটনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একজন চিকিৎসক গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।পিপার স্প্রে করার পর নারী নেত্রীরা কিছু সময় চুপসে থাকেন। নেত্রীরাসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে মুখের কাছে তাপ দিতে থাকেন। এতে কিছুটা স্বস্তি এলে নারীনেত্রীরা আবারও স্লোগান দেয়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর পৌনে ৪টার দিকে খালেদা জিয়া কার্যালয়ের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন স্লোগনে মুখরিত হয় রাজনৈতিক কার্যালয়। এ সময় কার্যালয়ের গেটে নারী পুলিশ চারটি লাইনে শক্ত অবস্থান নেয়। তাদের পেছনে আরও চারটি লাইনে থাকা পুরুষ পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকেন। খালেদা জিয়া কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে ওঠে পড়েন। কিন্তু তিনি বের হতে পারেননি। বাইরে তালা লাগানোর কারণে তিনি গাড়িতেই ৫০ মিনিট বসে থাকেন। তারপর গাড়ি থেকে বের হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন সেখানেই দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। ৫টা ৫ মিনিটে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। তিনি ২৫ মিনিট বক্তব্য দেন আর ৬ মিনিট সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সবমিলে ৩১ মিনিট গণমাধ্যমের সঙ্গে ছিলেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায় খালেদা জিয়া গেটের তালা খুলে দিতে বলেন। বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়া চোখ মুছতে মুছতে ভেতরে যান। কারণ নিক্ষেপ করার পিপার স্প্রেতে তিনি আক্রান্ত হন। গুলশান পুলিশের একটি সূত্র জানায়, উপরের নির্দেশ পেয়েই গুলশান কার্যালয়ের মূলগেট সোমবার ১২টার দিকে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। এর ৪০ মিনিট পর ওই কার্যালয়ের আরেকটি গেটেও পুলিশ তালা লাগায়।সোমবার বিকালে মহিলা দলের নেত্রীদের পিপার স্প্রে দেয়ার পরও তারা স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে প্রধান গেট ধাক্কাধাক্কি করায় পুলিশের এপিসি ও জলকামান লক্ষ্য করে সামনে আনা হয়। কিন্তু পিপার স্প্রে নিক্ষেপের পর পুলিশ আর কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করেনি। শনিবার রাতে বালু ও ইটের ট্রাক নিয়ে আসার সময় সেখানে পোশাকধারী পুলিশের সংখ্যা ছিল ৬০ জন। রোববার এ সংখ্যা ৯০ জনে দাঁড়ায়। গুলশান পুলিশের উপ-কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সেখানে ২৭ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ২১৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে ছিলেন একজন উপ-কমিশনার (ডিসি), সাতজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও ১৯ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার মর্যাদার কর্মকর্তা। পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও এনএসআই, এসবি, ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাদাপোশাকে সদস্যরা ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে সোমবার সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।রোববার দুপুর ২টার দিকে মহিলা দলের নেত্রীকর্মীরা গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে মিছিল বের করেন। তখন পুলিশ ও যুবলীগের কর্মীরা হামলা চালান। এতে কয়েকজন আহত হন। সেখানে পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। রোববার বিকালে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর।প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম। এর আগে দুপুর ২টার দিকে খালেদার উপদেষ্টা ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে পৃথক প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাতের পর খালেদা জিয়া কর্মসূচিতে কঠোর থাকার নির্দেশনা দেন।তবে অবরুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে পারননি বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক বি চৌধুরী ও মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বি চৌধুরী ও মেজর (অব.) মান্নান বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে তার গুলশান কার্যালয়ে যান। কিন্তু পুলিশ তাদের কার্যালয়ে ঢুকতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।সোমবার সকাল ১০টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে খালেদা জিয়ার জন্য পাউরুটি, কলা-ডিম-জুস প্রভৃতি খাবার আনা হয়। তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় ঘুম থেকে উঠেন। শনিবার রাত থেকে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবরুদ্ধ হন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ূম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আখতার রানু, নীলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমীনসহ আরও অনেকে।সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে থাকা মালবাহী ১১ ট্রাকের মধ্যে উত্তর দিকে থাকা ৩টি ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়। বাকিগুলো সরিয়ে নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার লুৎফুল কবির যুগান্তরকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার পর্যযেবক্ষণ ও প্রতিবেদনের পর ধীরে ধীরে সবকিছুই স্বাভাবিক হবে। খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকিছুই নিরাপত্তার স্বার্থে। তিনি চাইলে বাসায় যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে পুলিশ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এদিকে শনিবার রাত থেকে সোমবার রাতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসন অবরুদ্ধ ছিলেন।www.24banglanewspaper.com

Related Post:

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

pop Earnings