শিরোনাম
Loading...

news review 1

reveunis 2

Phone-Video

সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

ছাত্রলীগ সভাপতির বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ

যশোরের শার্শায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত যুবলীগ নেতা তোজাম (৪০) নিহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার সকালে শার্শা উপজেলার নাভারনে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতির বাড়ি, কার্যালয়সহ মার্কেটে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধরা। তারা নাভারন-সাতক্ষীরা সড়কের নাভারন সাতক্ষীরা মোড়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ৪ ঘন্টার তান্ডবে এলাকার লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। লাশ আসার পর আবারো সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
নিহত তোজাম শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের সিরাজের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। www.24banglanewspaper.com

শার্শায় গত বৃহস্পতিবার রাতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা তোজাম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার রেনেসা নামের একটি ক্লিনিকে সোমবার ভোররাতে মারা যায়।
নারীঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি রহিমের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে যুবলীগ নেতা তোজামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে কুপিয়ে জখম করে। তোজামের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সোমবার ভোর রাতে সে মারা যায়।
তোজামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নাভারনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তোজামের সমর্থক ও আওয়ামীলীগের একটি অংশ তাৎক্ষনিকভাবে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিমের বাড়ি, তার শ্বশুর বাড়ি, বোনের বাড়িসহ ৪/৫টি বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া উত্তজিত জনতা ছাত্রলীগ কর্মী সাজনের বাড়িও ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় বাড়িতে থাকা রহিমের মা ও স্ত্রীকে অবরোধ করে রাখলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদার রহমান পুলিশ নিয়ে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে। পরে নাভারণ-সাতক্ষীরা ও যশোর-বেনাপোল সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনায় ৩ জন পুলিশসহ ১০/১২ জন আহত হয়।
খবর শুনে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে পরে তা ব্যর্থ হয়। পরে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর যশোর থেকে দাঙ্গা পুলিশ আসে । এ ঘটনায় নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ে অবরোধ অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ সমাবেশ করে। উত্তেজিত জনতা ছাত্রলীগ সভাপতি রহিমের বাড়িতে আগুন জ্বালানোর পর তার মার্কেটে ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয়সহ ৬/৭টি দোকানেও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরিস্থিতি উত্তেজিত করতে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
খবর শুনে শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান, সিরাজুল হক মঞ্জু ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার এটিএম শরিফুল আলম ঘটনাস্থলে আসে এবং তোজাম হত্যার সুষ্ঠ বিচার হবে বলে আশ্বাস্ত করেন।
এসময় তোজামের সমর্থকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিমের ফাঁসির দাবি ও তার সাথে থাকা সকল খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জনান। এ ঘটনায় উত্তেজনা চলছে। নিহত তোজামের মৃতুদেহ এখন পর্যন্ত শার্শায় এসে পৌঁছায়নি। এ ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে যেয়ে শার্শা থানার এ এস  আই বখতিয়ার সহ কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল ইটের আঘাতে আহত হন। আহত এএসআই বখতিয়ারের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিমসহ ১২জনকে আসামী করে শার্শা থানা মামলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদার রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেস্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কসহ আশেপাশে পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তোজামের পক্ষে আব্দুর রহিমসহ ১২জনকে আসামী করে শার্শা থানা মামলা হয়েছে।

Related Post:

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

pop Earnings