নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষ খুন, নাশকতা, বোমা ও গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জানমালের ক্ষতি বন্ধের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ নিরাপত্তা চায়, শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। আমরা অসুস্থ রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। যে রাজনীতি দেশের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য সেই রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই বলে অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কী কী করতে চান, তা মানুষকে জানান। নিজের দলকে গড়ে তুলুন। তাহলেই হয়তো ভবিষ্যতে সম্ভাবনা থাকবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রীকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যে পথে আপনি চলছেন তা জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আরও হারাবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবারও অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, জনগণের মঙ্গল চায় না তারাই ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আগামী দিনে যে কোনো ধরনের নাশকতা এবং জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতেও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে। গত বছর এ দিনে (৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলো। নির্বাচনের এই দিবসটিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় ও সংবিধান রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করেছে। এ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় বক্তৃতা শুরু করেন, শেষ করেন সাতটা চল্লিশ মিনিটে। ২৫ মিনিটের এ ভাষণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতা, নির্বাচন অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আগামী দিনের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।শেখ হাসিনা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার কথা স্মরণ করেন এবং ওই সহিংসতা উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা সংলাপে বসার অনেক চেষ্টা করেছি। সংবিধানের আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের ছাড় দিতে চেয়েছিলাম। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে অনির্বাচিত সরকারের কোনো বিধান নেই।শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেয়াটা ছিল একটি রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, তাদের এই রাজনৈতিক ভুলের খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে? খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনার ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ আপনি ও আপনার দল সংসদে নেই। আপনি কাকে দোষ দেবেন? আপনার ভুলের জন্য নিজেকেই দোষ দিতে হবে।প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ছয় বছরে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। তিনি বলেন, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছি। আজ দেশের মানুষ ভালো আছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত রাখার ক্ষেত্রে ২০১৪ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যের বছর। তিনি বলেন, আমাদের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের ফলে গত মেয়াদের পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদের প্রথম বছরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ। আমরা ৬.২ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে বাংলাদেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। জাতীয় সংসদকে আমরা সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। সামরিক-বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেও বেতন আবারও দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হবে। পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর ঝুঁকিভাতা বাড়ানো হয়েছে। মিডিয়া এখন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে।তিনি বলেন, বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার নতুন ৩২টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ আইএমএসও, আইটিইউ এবং হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলসহ ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। ইউনেস্কো ‘শান্তি বৃক্ষ’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। জাতিসংঘ সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন দফতর এবং অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস আমাকে ‘ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ প্রদান করেছে। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জনের ফলে সমুদ্র সম্পদ আহরণের পথ সুগম হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতা, সব শহীদ এবং ১৫ আগস্ট নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। www.24banglanewspaper.com
