গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ
দাম্পত্য জীবন কি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে বিবাহিত বা দাম্পত্য জীবনযাপন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী। সম্প্রতি দি জার্নাল অব হাইপারটেনশন নামক সাময়িকীতে একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিজ্ঞানীরা। তারা ৩২৫ বয়স্ক লোকের ওপর দু’বছর ধরে নজর রাখেন। এদের মধ্যে অর্ধেক বিবাহিত। বিবাহিত লোকদের এক বিশেষ ধরনের যন্ত্র শরীরে পরে থাকতে বলা হয়। সারা দিন ধরে তাদের রক্তচাপ পরীক্ষা করে রাখার জন্য এ ব্যবস্থা।রক্তচাপ সাধারণত একটি দৈনন্দিন প্যাটার্ন বা ধারা মেনে চলে। এটি দিনে বৃদ্ধি পায় এবং রাতে কমতে থাকে। ডা. ফিনিয়ান বলেন, রাতে সিস্টোলিক চাপ শতকরা কমপক্ষে ১০ ভাগ কমে যাওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। এরকম না হলে বুঝতে হবে যে আপনার হৃদসংবহনতন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। বিবাহিত পুরুষরাই রাতের এ রক্তচাপ কমে যাওয়া প্রদর্শন করে থাকেন। অবিবাহিত পুরুষদের এমনটা সচরাচর ঘটে না।গবেষকরা মনে করেন, বিয়ে পুরুষদের এক ধরনের সামাজিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে তারা তাদের স্বাস্থ্য এবং মানসিক চাপের বিষয়গুলো ভালোভাবে সামাল দিতে পারেন। গবেষকরা আরও মনে করেন, বিয়ে প্রকৃতপক্ষে পুরুষদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি এবং মানসিক অবস্থার মধ্যে একটা মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপগর্ভকালীন সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ মিমি পারদের সমান বা বেশি অথবা ডায়াস্টলিক রক্তচাপ ৯০-এর সমান বা বেশি হলে তাকে গর্ভকালীন উচ্চরক্তচাপ বলে।গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ কিগর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ শুধু বাচ্চা পেটে আসার পর হয় এবং সাধারণত ২০ সপ্তাহ পর এ সমস্যা ধরা পড়ে। এতেও প্রস্রাবের সঙ্গে অ্যালবুমিন বের হয়ে যায় এবং বাচ্চা ডেলিভারির ৬ সপ্তাহ পর এ উচ্চ রক্তচাপ ভালো হয়ে যায়। এতে সাধারণত ওষুধের প্রয়োজন হয় না। এ ঘটনাকে প্রি-একলাম্পশিয়া বলে।কীভাবে নির্ণয় করা যায়গর্ভকালীন কমপক্ষে দুটি মাপ, দুটি ভিন্ন সময়ে নেয়া হয় অথবা ২৪ ঘণ্টা রক্তচাপ পরিমাপ করে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়।কি ধরনের উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়গর্ভকালীন তিন ধরনের উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়- ক. গর্ভপূর্ব স্থায়ী রক্তচাপ, খ. গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভপূর্ব স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ যোগ হওয়া।পূর্বস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ কাকে বলেউচ্চ রক্তচাপ যদি গর্ভাবস্থার আগে থেকেই থাকে অথবা গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহ আগেই উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে তবে তাকে গর্ভ পূর্বস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ বলে।গর্ভপূর্ব স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপে কী কী সমস্যা হয় এবং কীভাবে ভালো হয়গর্ভপূর্ব স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রোগীর গর্ভকালীন প্রস্রাবের সঙ্গে দেহের অতি প্রয়োজনীয় অ্যালবুমিন বের হয়ে যায়। এতে শরীরে পানি আসাসহ অন্য উপসর্গ দেখা যায়। এটা সাধারণত বাচ্চা ডেলিভারি হওয়ার ৬ সপ্তাহ পরও থেকে যেতে পারে।গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপে কি কি সমস্যা হয়এ সময় প্রস্রাবের সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অ্যালবুমিন বের হয়ে যায়। অনেক সময় পানি জমে শরীর ফুলে যায়। বাচ্চা ঠিকমতো বেড়ে ওঠে না। বাচ্চার ওজন কম হয়। এবরশন বা গর্ভপাত হতে পারে বা জরায়ুতে বাচ্চা মারা যেতে পারে। এছাড়াও রোগীর মারাত্মক খিঁচুনি হতে পারে, যাকে একলাম্পশিয়া বলে।কীভাবে চিকিৎসা করা যায়রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে বলা হয়। ভারি কাজ পরিহার করতে হবে। পাতে লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। মিথাইল ডোপা, ল্যাবেটলল এবং ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকরস যেমন অ্যামলোডিপিন, নিফিডিপিন দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কোন ওষুধ ব্যবহার করা নিষেধএসিই ইনহিবিটরস গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা পুরোপুরি নিষেধ। এতে বাচ্চার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন কখন ব্যবহার করা হয়প্রি-একলাম্পশিয়া থাকলে স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন ২৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের জন্য কখন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ ১৭০/১১০ মিমি পারদের বেশি হলে হাসপাতালে অবশ্যই ভর্তি করে শিরাপথে ল্যাবেটলল, মিথাইল ডোপা ও মুখে নিফিডিপিন বড়ি ব্যবহার করে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।হাসপাতালে কি ওষুধ ব্যবহার করা যায়শিরাপথে নাইট্রোপ্রসাইড, ডাইইউরেটিকস ব্যবহার করা যেতে পারে।খিঁচুনি হলে কি ব্যবহার করা যায়একলাম্পশিয়া বা খিঁচুনি হলে শিরাপথে ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ব্যবহার করা যায়। এটি কার্যকরী।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী কোন ওষুধ বুকের দুধের সঙ্গে বাচ্চার শরীরে যেতে পারেপ্রপানলল এবং নিফিডিপিন বেশি পরিমাণ বুকের দুধের সঙ্গে নির্গত হয় বলে এই দুটো ওষুধ বেশি পরিমাণে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। www.24banglanewspaper.com
